নাগরিকরা সোচ্চার হলে প্রতিষ্ঠিত হবে গণতন্ত্র ও সুশাসন: সুজন

একটি রাষ্ট্রের নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই উল্লেখ করে নাগরিকরা সোচ্চার হলে দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর নেতৃবৃন্দ।

রবিবার (১২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের অডিটরিয়ামে সুজন এর ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় সাবেক নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনে থাকাবস্থায় নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সুজন বেশকিছু সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করে। এর বেশিরভাগ প্রস্তাবই কমিশন গ্রহণ করেছিল। নির্বাচনে প্রার্থী প্রদত্ত হলফনামার বিধানটি আইনে পরিণত করার ক্ষেত্রে সুজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।’

ভবিষ্যতে নির্বাচনে ‘না’ ভোটের বিধানটি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সুজন আইনি লড়াই পরিচালনা করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিচারপতি কাজী এবাদুল হক বলেন, ‘সুজন এর প্রতিষ্ঠা হয়েছিল দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। তবে সুজনের বেশিরভাগ কাজ পরিচালিত হয় নির্বাচনকেন্দ্রিক। কারণ আমরা মনে করি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সৎ ও জনকল্যাণকামী নেতা নির্বাচিত হয় এবং দেশে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ঘটে।’

বাংলাদেশ যে উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সুজন একই উদ্দেশ্য পূরণের জন্য কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বিগত ১৫ বছরে সুজনের অনেক অর্জন রয়েছে। আগামী দিনে নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সার্বিকভাবে সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা দরকার। একই সঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা ও ইস্যু নিয়েও কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ নিয়েও কাজ করা দরকার। শুধু ভাল সংবিধান আর আইন থাকলেই হয় না, নাগরিকরা সোচ্চার হলেই দেশে সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।’

বাসদ এর সাধারণ সম্পাদক খালিকুজ্জামান বলেন, ‘সুজনের উদ্যোগে অনেক সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়েছে। আজকে জনগণকে ক্ষমতাহীন করে ফেলা হচ্ছে। টপ-ডাউন অ্যাপ্রোচে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা কারো কাম্য হতে পারে না। রাজনীতি আজ দুর্বৃত্তদের হাতে চলে গিয়েছে। তাই সত্যিকারের রাজনীতি চাই, পরিশুদ্ধ রাজনীতি চাই।’

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘সুজন সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি নাগরিক সংগঠন। দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নাগরিক সংগঠনটি জন্মলগ্ন থেকেই বিভিন্নমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘২০০২ সালের ১২ নভেম্বরে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে ‘সিটিজেন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন্স (সিএফই)’ নামে। প্রারম্ভিক পর্যায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীরা যাতে নির্বাচিত হতে পারেন সে লক্ষ্যে কাজ করে। পরবর্তীতে দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। এই লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ২০০৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সংগঠনটির নামকরণ করা হয় ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’, সংক্ষেপে ‘সুজন’।’

নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে পরিচ্ছন্ন রাখা, নির্বাচনী আচরণবিধিতে পরিবর্তন আনা, সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন, ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন, তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য সচিবালয় প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সুজনের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরেন ড. মজুমদার ।

সুজন সহ-সভাপতি বিচারপতি কাজী এবাদুল হক এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ড. হামিদা হোসেন, প্রকৌশলী মুসবাহ আলীম, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সহ-সভাপতি রেখা চৌধুরী, রাজনীতিবিদ এএসএম আকরাম, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি প্রমুখ।

সভা শুরুর আগে সম্প্রতি রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে সংগঠনটি।

Comments

Popular posts from this blog

বাংলাদেশে পেপ্যাল আসছে ১৯ অক্টোবর, উদ্বোধন করবেন জয়

এক মাসের ছুটিতে যাচ্ছেন প্রধান বিচারপতি: অ্যাটর্নি জেনারেল

ইনজেকশন থেকে মাদক বানিয়ে বিশেষ কায়দায় বিদেশে পাচার